Tuesday, June 28, 2022

দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের পদ্ধতি ও বিচার- -

 দুর্নীতি দমন কমিশনে(দুদুক)অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি-

দুর্নীতি দমন কমিশনের তফসিলভূক্ত অপরাধ সমূহের বিবরণসহ কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান/ পরিচালক, বিভাগীয় কার্যালয়/ উপপরিচালক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় বরাবর নিম্নবর্ণিত তথ্য সম্বলিত অভিযোগ দাখিল করা যাবে। এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনের এ অভিযোগ প্রেরণ করা যাবে। 
দুদকে অভিযোগ দায়ের করতে হলে নিম্নোক্ত তথ্যাবলী প্রদান করবেন :
১. অভিযোগের বিবরণ ও সময় কালঃ 
২. অভিযোগের সমর্থনে তথ্য-উপাত্ত এর বিবরণঃ 
৩. অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, পদবী



ও ঠিকানাঃ 
৪. অভিযোগকারী (যদি থাকে) নাম ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বরসহ অভিযোগ দাখিল করতে পারবে।
দুদকে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি
লিখিত অভিযোগ জানাতে :
১। 'চেয়ারম্যান/কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ১ সেগুন বাগিচা, ঢাকা'  বরাবর।২। 'বিভাগীয় পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভাগীয় কার্যালয়, ঢাকা/চট্টগ্রাম/রাজশাহী/খুলনা/বরিশাল/সিলেট/রংপুর/ময়মনসিংহ' বরাবর।৩। 'উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন,  সমন্বিত জেলা কার্যালয় (অপরাধটি যে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের অধীন সংঘটিত)' বরাবর।৪।ই-মেইল: chairman@acc.org.bd 
৫। কমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ (Anti-Corruption Commission - Bangladesh)
মামলা কোথায় দায়ের হয়-
যেকোনো দুর্নীতির বিষয়ে মামলা বা এফআইআর করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিজ কার্যালয়ে এজাহার দাখিল ও ওই এজাহারের ভিত্তিতে তদন্ত করার ক্ষমতা রয়েছে । দুদকের ওই বিধিমালা অনুযায়ী দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে থানা সরাসরি মামলা রেকর্ড করতে পারে না। কেবলমাত্র জিডি হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। থানা অভিযোগ (জিডি) পাঠিয়ে দেয় দুদকে। এরপর তার ভিত্তিতে অনুসন্ধানের পর দুদক মামলা করে। দুদকে এজহার দায়েরের পর সেটি সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে উপস্থাপন পূর্বক আমলে গ্রহণের জন্য আবেদন করে, ক্ষেত্র বিশেষ আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানায়।
দুদকে মামলা হলে করণীয়-

কারো বিরুদ্ধে দুদকের মামলা হলে কীভাবে মামলার অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবেন সে চিন্তাভাবনা করতে হবে। কারণ, অভিযুক্ত হলেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে কেউ অপরাধী। আইনের চোখে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত নিরপরাধ বলে গণ্য। অভিযুক্ত দোষী বা নির্দোষ, সেটি পরে প্রমাণিত হবে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে যেন এ মামলা সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয় সে চেষ্টা করতে হবে।

দুদক মামলায় জামিন -
দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ব্যাক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে কিংবা গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালতের নিকট জামিন চাইতে পারেন।
আগাম জামিন -গ্রেফতার না হলে অনেক সময় হাইকোর্ট বিভাগে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে আগাম জামিন চাওয়া যায়। হাইকোর্ট বিভাগ আগাম জামিন সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। এ মেয়াদের মধ্যেই নিম্ন আদালতে গিয়ে জামিননামা সম্পাদনের জন্য আবেদন করতে হবে।
জামিন- আসামীকে গ্রেফতার করে যে আদালতে প্রেরণ করা হবে সে আদালতে কিংবা পর্যায়ক্রমে উর্ধতন আদালতগুলোতে আসামীর জামিন চাওয়ার অধিকার আছে। আদালত মামলার গুনাগুন বিবেচনায় এবং আসামীর জামিনের উপযুক্ত কোন গ্রাউন্ড থাকলে আদালত আসামীর জামিন মঞ্জুর করতে পারেন।
নির্দোষিতা প্রমাণের চেষ্টা -জামিন নেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি কিংবা জামিন নেওয়ার পর অভিযোগপত্র দাখিল করার আগে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে, তা যথাযথ নয় মর্মে প্রমাণের চেষ্টা করা যায়।তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন। চার্জশিট বা অভিযোগপত্র হয়ে গেলে আপনার মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলি হবে। অভিযোগ গঠনের দিন আপনাকে হাজির হয়ে নতুন করে পূর্বশর্তে জামিন চাইতে হবে এবং জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। তখন আপনি মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।
অন্যান্য বিষয়াবলী -
যদি এমন হয় যে আপনি জানতে পারলেন না, আপনার বিরুদ্ধে এজাহার হয়েছে। পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেপ্তার করল। আপনাকে থানায় নিয়ে গেল। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। তখন আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে। যদি পুলিশ রিমান্ড চায়, তাহলে আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে রিমান্ড বাতিলের জন্য আবেদন করবেন। যদি জামিন দেন আদালত, তাহলে একজন পরিচিত জামিনদারের জিম্মায় আপনার জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। যদি জামিন না হয়, তাহলে পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে।
মামলায় জামিন না নিয়ে পলাতক থাকলে-
আপনাকে মামলায় আসামী করা হলে এবং কোনো কারণে আপনার মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন না নিয়ে পলাতক থাকেন তাহলে আপনার নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হতে পারে। এতে হাজির না হলে আপনার মালামাল ক্রোকের আদেশ হতে পারে এবং আপনার অনুপস্থিতিতেই বিচার হতে পারে। এবং মামলার রায় হয়ে গেলে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় আপনি অত্র মামলায় গ্রেফতার হতে পারেন। তাই মামলা হলে আদালতে হাজির হয়ে নিজের নির্দোষিতা কিংবা সাজা কমানোর চেষ্টা করা উচিত।
                  ★★★
   সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন,নিজে আইন মেনে চলুন,অন্যকেও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।সবাই আইন ও নিয়ম মেনে চলে একটি সুন্দর সমাজ তথা দেশ ঘটনে অবদান রাখুন।
                   এম আমির উদ্দিন(আমির)
                                        এডভোকেট,
                                  ঢাকা জজ কোর্ট
সম্পাদক, আইন আদালত সবার তরে।
            প্র‍য়োজনে - 01673- 240243,
https://www.facebook.com/amirdcph

Monday, March 7, 2022

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন

 ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন - নিজের নাম সংশোধনে করণীয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসমূহ।


এনআইডি কার্ডে নিজের নাম সংশোধনের জন্য করণীয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসমূহ

পূর্বে যারা ভোটার হয়েছেন তাদের অনেকেরই এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ডে কিছু না কিছু ভুল অবশ্যই আছে। অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম কি? বা কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা যায়? ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে? সত্য এটাই যে, অনেকেই এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানেন না। ফলে তারা এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড এর ভুল নিয়ে নানা ধরণের ভোগান্তিতে পরেন। এই পোষ্টে উল্লেখ করবো খুব সহজে কিভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা যায়। ভোটার আইডি কার্ড এ নিজের নাম সংশোধনে করণীয় কি এবং কি কি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।


জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম:-

এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ডে নিজের বাংলা নাম ও ইংরেজি নামে যদি প্রকৃতপক্ষেই ভুল থাকে তাহলে সংশোধনের আবেদন দাখিল করে তা ঠিক করা যায়। এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এর আবেদন দুই ভাবে করা যায়। 


প্রথমত সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম - ২ সংগ্রহ করে পূরণ করতে হবে। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি রকেট/বিকাশ এর মাধ্যমে জমা দিয়ে তার রশিদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফরমের পিছেনে পিন-আপ করে জমা দিলে সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয়। 


দ্বিতীয়ত অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এর আবেদন দাখিল করা যায়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট services.nidw.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করলে ওই ভোটারের ছবি, নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখসহ যাবতীয় তথ্য দেখা যায় এবং এগুলো এডিট করার মাধ্যমে আবেদন দাখিল করা যায়। আপনি চাইলে ঘরে বসে নিজেই নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এর আবেদন দাখিল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অফিসে যাওয়া আসার কষ্ট করার প্রয়োজন হয় না এবং সময়ও বেচে যায়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে ঘরে বসে অনলাইনে এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এর আবেদন করাই ভালো।


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে?

যদি নামের বানান প্রকৃতপক্ষে ভুল থাকে এবং নামের আগের থাকা মোঃ/মোছাঃ যোগ করতে বা বাদ দিতে চান, অর্থাৎ সাধারণ ভুল হয় সেক্ষেত্রে আবেদনের সাথে-


❖ এসএসসি সনদ: আবেদনকারীর এসএসসি/সমমান সনদের ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। অথবা অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এর আবেদন করার সময় ছবি তুলে বা স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। 


❖ জন্ম নিবন্ধন সনদ: আবেদনকারীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সনদ সবার জন্য বাধ্যতামূলক।


যদি আপনি বিবাহিত হন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না থাকে তাহলে আবেদনের সাথে নিম্নোক্ত কাগজপত্রগুলো জমা দিতে পারেন।


❖ অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি (বাধ্যতামূলক)।


❖ সন্তানদের ভোটার আইডি কার্ডের কপি অথবা শিক্ষা সনদ অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ (যদি থাকে)।


❖ স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের কপি (যদি থাকে)। 


 ❖ কাবিননামা/বৈবাহিক সনদ (যদি থাকে)।


❖ সার্ভিস বই/এমপিও শীটের কপি (চাকরিজীবি হলে)।


 ❖ পৌর মেয়র/চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র ইত্যাদি (যার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য)।


আপনি যদি বিবাহিত না হন তাহলে একটু খেয়াল করে দেখবেন যেসব কাগজপত্রে আপনার নাম সঠিক করে লেখা আছে। সে সব কাগজপত্র আবেদনের সাথে জমা দেবেন।


যদি নামের পদবী সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে চান তাহলে-


❖ এসএসসি সনদ (যদি থাকে)।


❖ অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (বাধ্যতামূলক)।


❖ স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের কপি (যদি থাকে)।


❖ কাবিননামা/বৈবাহিক সনদ (যদি থাকে)।


❖ সন্তানদের ভোটার আইডি কার্ড এর কপি অথবা শিক্ষা সনদ অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ (যদি থাকে)।


❖ পাসপোর্টের কপি (যদি থাকে)।


❖ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কপি (যদি থাকে)।


 ❖ পৌর মেয়র/চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র ইত্যাদি (যার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য)।  


উপরোক্ত কাগজপত্রের মধ্যে যে কাগজপত্রগুলো আপনার আছে আবেদনের প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো জমা দেবেন।


যদি আপনার সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন করার জন্য আবেদন করেন সেক্ষেত্রে উপরিউল্লেখিত কাগজপত্রের মধ্যে যে যে কাগজগুলো আপনার আছে সেগুলোর সাথে একটি এ্যাফিডেভিট/হলফনামা জমা দিতে হবে। হলফনামা অবশ্যই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত হতে হবে, নোটারী পাবলিক থেকে না করাই ভালো। 


সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের আবেদনগুলোতে যত কাগজপত্রই দেন না কেন সেখানে সরেজমিন তদন্ত করার প্রয়োজন হয়। উপজেলা নির্বাচন অফিসার সরেজমিন তদন্ত করবেন রিপোর্ট তৈরী করে প্রেরণ করবেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট। তদন্ত প্রতিবেদন ও আপনার দাখিলকৃত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার আবেদন অনুমোদন করতে বা বাতিল করতে পারে। এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড থেকে নিজের সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের আবেদনগুলো সহজে অনুমোদন পায় না। কারণ সেখানে অনেক কিছু বিচার বিশ্লেষণ করার থাকে এবং সেগুলো সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদন চলমান অবস্থায় থাকে। তারপরও আপনি চাইলে আমার দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী আবেদন করে দেখতে পারেন। 


আপনার দাখিলকৃত আবেদন অনুমোদন হলে বা বাতিল হলে বা আরো কাগজপত্র প্রয়োজন হলে আবেদনের সময় সরবরাহকৃত মোবাইল নম্বরে ম্যাসেজ করে জানানো হয়। 


আবেদন অনুমোদন হলে অনলাইন সিস্টেম হতে মূল এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড এর একটি অনুলিপি ডাউনলোড করা যাবে। সেটি প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করে নিলেই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন। অথবা আবেদন অনুমোদন হওয়ার পর ৫-৭ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে সংশোধিত এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ডটি সংগ্রহ করা যাবে।


এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড এ নিজের নাম সংশোধনের জন্য যে পরামর্শ এখানে দেয়া হলো আপনি যদি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে পরামর্শ নেন তাহলে তারাও আপনাকে এই একই ধরণের পরামর্শ দেবে। তাই আপনার নামে যদি এ ধরণের কোন ভুল থাকে তাহলে আবেদনের প্রাথমিক অবস্থায় আমার দেয়া এই পরামর্শ অনুযায়ী আবেদন দাখিল করতে পারেন। 


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন সম্পর্কে উক্ত পরামর্শটি একটি সঠিক পরামর্শ। এর পরও যদি এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টস করবেন। আপনাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ.......।

collected


Friday, November 19, 2021

Monday, April 22, 2019

পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে পারিবারিক সমস্যা নিরসন করতে চাইলে?




কোনো বিষয়ে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিয়েছে? ভাবছেন কী করবেন।কোনোভাবেই নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। যদি একেবারেই কোনোভাবে বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে না পারেন তাহলে আপনি পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। পারিবারিক কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যই দেশে পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।পারিবারিক আদালতে মূলত পাঁচটি পারিবারিক সমস্যার নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে -

১)বিবাহবিচ্ছেদ: বিবাহবিচ্ছেদের জন্য সব সময় আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যে ক্ষেত্রে কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে কেবল স্ত্রী আদালতে যেতে পারে। এ ছাড়া স্ত্রী যদি স্বামীকে ‘খোলা’ বা ‘মোবারাত’ বিচ্ছেদে সম্মত করাতে পারেন, সে ক্ষেত্রেও আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

২)দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার: কোনো কারণে দাম্পত্য জীবন ব্যাহত হলে এবং সংসারে ফেরত না আসতে পারলে স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।

৩)মোহরানা: স্বামীর পরিশোধ না করা দেনমোহরের জন্য স্ত্রী মামলা করতে পারেন। তাৎক্ষণিক মোহরানার জন্য যে তারিখে তা দাবি করা হয় এবং অগ্রাহ্য করা হয়, সে তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে এবং বিলম্বে মোহরানার জন্য বিচ্ছেদ ঘটার তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।

৪)ভরণপোষণ: স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে না চান, তাহলে স্ত্রী যেদিন থেকে ভরণপোষণের টাকা দাবি করবেন, সেদিন থেকে তিন বছরের মধ্যে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে হবে।

৫)সন্তানের অভিভাবকত্ব: সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং হেফাজত নিয়ে কোনো বিরোধ হলে পারিবারিক আদালতে যাওয়া যেতে পারে।

***কোন আদাালতে আশ্রয় নেবেন-

উভয় পক্ষ যেখানে বসবাস করে বা সর্বশেষ বসবাস করেছে এবং যে পারিবারিক আদালতের স্থানীয় সীমার মধ্যে সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে, সেই আদালতে মামলা করতে হবে। তবে বিবাহবিচ্ছেদ, মোহরানা ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে যেখানে স্ত্রী বসবাস করেন, সেই এলাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারবেন। দেনমোহর বা ভরণপোষণের পরিমাণ যতই হোক, মামলা করা যাবে। পারিবারিক আদালতে আইন চর্চা করেন এমন একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করতে হবে। পারিবারিক আদালতে আশ্রয় নিতে হলে খুব বেশি কোর্ট ফি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার যারা পারিবারিক বিষয়ে কাজ করে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমেও আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে। পারিবারিক আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের বিধান থাকলেও বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। এ ছাড়া পাঁচ হাজার টাকার কম মোহরানার ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলবে না। কোনো আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আদালত বাদী ও বিবাদীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেবেন। আদালত প্রয়োজনে রুদ্ধদ্বার কক্ষেও বিচারের ব্যবস্থা করতে পারেন।

*** আপস মীমাংসার সুযোগ-

পারিবারিক আদালতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে নিজেদের মধ্যে আপস মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। একবার মামলার বিচার শুরু হওয়ার আগে এক দফা এবং পরবর্তী সময়ে রায় ঘোষণার আগে দ্বিতীয় দফায় আপসের সুযোগ রয়েছে। তাই পারিবারিক বিষয়ে আদালতে গেলেও নিজেদের মধ্যে আপস মীমাংসা করে নেওয়াই উচিত। আবার আপসমূলে আদালতের ডিক্রি নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।


                                 ★★★
সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন,নিজে আইন মেনে চলুন,অন্যকেও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।সবাই আইন ও নিয়ম মেনে চলে একটি সুন্দর সমাজ তথা দেশ ঘটনে অবদান রাখুন।

শেখ মোহাম্মদ  আমির উদ্দিন(আমির)
                                        এডভোকেট,
                                  ঢাকা জজ কোর্ট
প্রধান সম্পাদক, আইন আদালত সবার তরে।
            প্র‍য়োজনে - 01673- 240243,


Monday, April 8, 2019

থানায় জিডি ও আপনার করণীয়




★★★জেনে নিন থানায় জিডি ও আপনার করণীয় সম্পর্কে     -

জিডি বা জেনারেল ডায়েরী হলো প্রতিটি থানা ও ফাঁড়ির একটি নির্দিষ্ট  ডায়েরীতে ২৪ ঘন্টার খবর লিখে রাখা। এই ডায়েরীতে থানার বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন -আসামী কোর্টে চালান দেয়া,থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমন ও প্রস্থান, কোন কিছু হারিয়ে যাওয়া, কোন ধরণের হুমকি,ভয়ভীতি প্রদর্শন,মামলাযোগ্য নয় এমন কোন ঘটনা,অন্য কোন কারণে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে কিংবা কোন অপরাধের আশঙ্কা করলে,ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে।  এক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একটি ডায়েরীতে জিডির নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন,প্রয়োজনবোধে তদন্ত করেন এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন এবং জিডির বিষয়টি মামলাযোগ্য হলে বিষয়টি মামলা হিসেবে কোর্টে দায়ের করেন। আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জিডি অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় আদালতে জিডিকে সাক্ষ্য হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
★★ ★জিডিতে যে সকল বিষয় উল্লেখ করতে হবে:
১. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সম্বোধন করে থানার নাম ও ঠিকানা,জিডির বিষয়,অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করলে আশঙ্কার কারণ, হুমকি দিলে হুমকি দেওয়ার স্থান, তারিখ, সময়,ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিচিত হলে তার নাম,পিতার নাম, ঠিকানাইত্যাদি, সাক্ষী থাকলে তাদের নাম,ঠিকানা ইত্যাদি,অপরিচিত হলে তাদের শনাক্তকরণের বর্ণনা দিতে হবে। এবং  জিডি নথিভুক্ত করে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন, সর্বশেষ জিডিকারীর নাম, স্বাক্ষর, পিতার নাম, পূর্ণ ঠিকানা ও তারিখ লিখতে হবে।
★★★অনলাইন জিডিঃ
পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, ব্যাংকের চেকবই, সার্টিফিকেট বা অন্য যে কোন গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারানো, বখাটে, মাদক সেবী বা অপরাধীদের আড্ডাস্থল বা অন্য কোন অবৈধ সমাবেশ সম্পর্কে তথ্য (তাৎক্ষনিক সাড়ার প্রয়োজন হলে মোবাইল বা অন্য কোন মাধ্যমে সরাসরি ডিউটি অফিসার বা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে হবে)।ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তি, যখন নিরাপদ অবস্থানে বা তার আবাসস্থলে আছেন (ছিনতাইকারী গ্রেফতার বা মালামাল উদ্ধারের আশায় জরুরী বা তাৎক্ষনিক পুলিশী সাড়ার প্রয়োজন হলে ডিউটি অফিসার বা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলতে হবে। জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা আছে এমন কোন অবৈধ সমাবেশ সম্পর্কে আগাম তথ্য।গৃহে পারিবারিক  দারোয়ান, কেয়ারটেকার, নৈশপ্রহরী নিয়োগ (বা পলায়ন) সম্পর্কে তথ্য। নতুন বা পুরোনো ভাড়াটিয়া সম্পর্কে তথ্য। এজাতীয় ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করা যেতে পারে বা সরাসরি পুলিশ সদরদপ্তরে ফ্যাক্স বা ই-মেইল করে জিডি করা যায়।অনলাইনে দেশের বাইরে থেকেও জিডি করা যায়।
ই-মেইল: bangladesh@police.gov.bd. ,ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৯৫৫৮৮১৮ ,অনলাইনে জিডি করার জন্য www.police.gov.bdসাইটে গিয়ে ‘Citizens help request’ –এ ক্লিক করে জিডি সম্পন্ন করা যায়।
সার্টিফিকেট হারানোর একটি জিডির নমুনা -

বরাবর
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
...................... থানা
ডিএমপি, ঢাকা। 
বিষয়: এসএসসি সার্টিফিকেট হারানো সংবাদ ডায়েরীভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন। 
মহোদয়,
আমি নিম্ন সাক্ষরকারী আপনার থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাচ্ছি যে, আমার এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট আজ সকাল আনুমানিক ১১ টার সময় ঢাকা কলেজের পাশের রাস্তার একটি ফটোকপি করার দোকান থেকে হারিয়ে গেছে। 
এমতাবস্থায় হারানোর বিষয়টি ডায়েরীভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। 
সার্টিফিকেটের বিবরণ:
পরীক্ষার নাম...শিক্ষাবর্ষ...রেজিষ্ট্রেশন নং... রোল নং... 
বিনীত নিবেদক
............................... 

ঠিকানাঃ .................. 

মোবাইলঃ ০১.............
★★★জিডি সম্পর্কিত কিছু সাধারণ তথ্য -

১)জিডির দুটি কপি করা হয়। একটি থানায় সংরক্ষণ করা হয় এবং অন্যটি  জিডিকারীর নিকট  সংরক্ষণের জন্য দেয়া হয়।

২) অভিযোগকারী নিজে জিডি লিখতে পারেন, এবং প্রয়োজনে থানার কোন কর্মকর্তার দ্বারা ও লিখিয়ে নিতে পারেন। 

৩)জিডি করতে থানায় কোনো ফি দিতে হয় না।
   ★★★

সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন,নিজে আইন মেনে চলুন,অন্যকেও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।সবাই আইন ও নিয়ম মেনে চলে একটি সুন্দর সমাজ তথা দেশ ঘটনে অবদান রাখুন।
শেখ মোহাম্মদ  আমির উদ্দিন(আমির)

                                        এডভোকেট,

                                  ঢাকা জজ কোর্ট

প্রধান সম্পাদক, আইন আদালত সবার তরে।

            প্র‍য়োজনে - 01673- 240243,


Monday, February 18, 2019

ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে করণীয়...

জেনে নিন ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে কি করবেন-

***ব্ল্যাকমেইল -- আপনার ব্যক্তিগত এমন কোন তথ্য বা চিত্র যদি কারো কাছে থাকে যেটি প্রকাশ পেলে আপনার সামাজিক মান মর্যাদার হানি হবে এবং সেটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কেউ যদি আপনাকে ইচ্ছার বিরূদ্ধে কোন কাজ করাতে চায় তাহাই ব্ল্যাকমেইল বলে গন্য করা হয়।
*** ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুনঃ
১)  মনে রাখবেন আপনার সাথে যা হচ্ছে তাতে আপনি অপরাধী নন,আপনি ভিকটিম,এটা আপনার কোন অপরাধ নয়, মাথা উঁচু রাখুন। আপনার অতীতকে আপনি পেছনে ফেলে এসেছেন, সেটাকে খুঁচিয়ে বের করে কোন কাপুরুষ, বর্বর যদি ফায়দা লুটতে চায় সেটা আপনার দোষ না।
২) দেশের প্রচলিত আইন সম্পূর্ণরূপে আপনার পক্ষে। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা অনুযায়ী যে কোন ধরণের ব্ল্যাকমেইল এক্সটরশন বা চাঁদাবাজি বলে গন্য হবে এবং  এর শাস্তি  তিন বছর পর্যন্ত  কারাদণ্ড, এবং জরিমানাদন্ড ও দিতে পারে। আর ইন্টারনেট/ফেসবুকের মাধ্যমে কেউ যদি আপনার ক্ষতি করতে চায় সেক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ বা ICT (Amendment) Act-2013;অনুযায়ী ৭ বছর থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড সহ অর্থদন্ডে দন্ডিত হতে পারে, এবং যা একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ।
৩) যখন বুঝতে পারবেন আপনি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন, ভয় না পেয়ে কাছের মানুষজনের সহায়তা নিন এবং  পরিবারকে জানান। আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবারকে জানাতে দ্বিধা করেন। জেনে রাখুন, আপনার চরম দুঃসময়ে আপনার পরিবারই আপনার সবচাইতে বড় ভরসা। তাঁরা হয়তো আপনার অতীতের ভুলের কারণে কষ্ট পাবেন, কিন্তু এবং কিছু বকাঝকা করলে ও আপনার সাহায্যে তাঁরা এগিয়ে আসবেন এটা মোটামুটি ১০০ ভাগ নিশ্চিত।
৪) কখনো মনের জোর হারাবেন না বা নিজেকে দোষ দেবেন না। ব্ল্যাকমেইলিং একটি জঘন্য অপরাধ, তথাকথিত সমাজ আপনাকে যতই ছোট করতে চাক না কেন আইন অনুযায়ী আপনি সহায়তা পাবেন। সমাজের মুখোশধারী মুরুব্বিদের চোখ-কপালে তোলাকে অগ্রাহ্য করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, আইনের সহায়তা নিন।
                             এবং
সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন,নিজে আইন মেনে চলুন,অন্যকেও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করুন

শেখ মোঃ আমির উদ্দীন(আমির)
সাধারণ সম্পাদক,  ব্লিয়াক
প্রধান সম্পাদক, আইন আদালত সবার তরে।
প্র‍য়োজনে - ০১৬৭৩২৪০২৪৩

Wednesday, February 6, 2019

মামলা দায়েরের পর প্রত্যাহার করতে চাই....

★★★জেনে নিন মামলা দায়েরের পর প্রত্যাহার করার নিয়ম ★★★

★আমাদের দেশে অনেক বিচারপ্রার্থীর নিকট এটা একটা সাধারণ প্রশ্ন যে আদালতে মামলা করার পর মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ আছে কি না?উত্তর হলো  আইন অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহার করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় জানা থাকা জরুরি।
★★★ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে :
ফৌজদারি মামলা সাধারণত দুই ধরনের : সি,আর ও জি,আর মামলা। সাধারণত জিআর মামলা থানায় দায়ের করা হয় আর সিআর মামলা দায়ের করতে হয় ফৌজদারি আদালতে।
জিআর মামলায় বাদীর পক্ষে রাষ্ট্র নিজেই আইনজীবী নিযুক্ত করেন, যাদের বলা হয় হয় পাবলিক প্রসিকিউটর বা রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি)। আর সিআর মামলাগুলোতে নালিশকারীকেই ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবী নিযুক্ত করে মামলা পরিচালনা করতে হয়।কোনো মামলায় পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাব কিংবা মামলার পক্ষগণের মধ্যে সমঝোতার অন্য  কোন  কারণে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মামলা মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধিতে দুই ধরনের বিধান রাখা আছে।
১)জি.আর মামলা প্রত্যাহার - যেসব জিআর মামলা রাষ্ট্র নিজেই পক্ষ, সেসব মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারায় মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা যায়।ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বা পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের অনুমতি নিয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মোকদ্দমায়, সাধারণভাবে যেসব অপরাধে তাঁর বিচার হচ্ছে, তার যেকোনো এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে পরিচালনা থেকে সরে যেতে পারেন। অভিযোগনামা প্রণয়নের আগে সরে গেলে ওই এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে আসামির অব্যাহতি হবে; এবং অভিযোগ প্রণয়নের পর সরে গেলে অথবা এই আইন অনুসারে কোনো অভিযোগনামা প্রণয়ন করা প্রয়োজন না হলে ওই এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে আসামিকে খালাস দিতে হবে। মামলা পরিচালনা থেকে সরে যাওয়ার উপযুক্ত কারণ সম্পর্কে সরকারি বাদী আদালতকে সন্তুষ্ট করবেন। কেবল সরকারের তরফ থেকে মামলা থেকে সরে যাওয়ার আদেশ আদালত কর্তৃক অনুমতি প্রদানের জন্য যথেষ্ট কারণ হবে না।যেমন, মামলা প্রত্যাহারের আবেদন কেবল পাবলিক প্রসিকিউটরের তরফ থেকেই হতে হবে। এজাহারকারী কিংবা আসামির আবেদন কিংবা সরকারের কোনো আদেশের বলে মামলা প্রত্যাহার করা যাবে না এবং মামলা প্রত্যাহারের যুক্তিযুক্ত কারণ কৌঁসুলির পক্ষ থেকে আদালতের সামনে ব্যাখ্যা করতে হবে। কেবল সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে আদালত মামলা প্রত্যাহারের আদেশ দেবে না।
মামলা প্রত্যাহার সম্পর্কে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। মামলার ভুক্তভোগী, এজাহারকারী বা বাদী যদি মনে করে রাষ্ট্রপক্ষ অহেতুক তাদের মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে ক্ষেত্র বিশেষে দায়রা জজ আদালত কিংবা হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করতে পারে।

২)সিআর মামলায় নালিশকারী বা তাঁর পক্ষ থেকে নিযুক্ত আইনজীবী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারেন ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৮ ধারা অনুসারে। কোনো মামলার চূড়ান্ত আদেশ হওয়ার আগ পর্যন্ত বাদী যদি ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারেন যে, তাঁকে নালিশ প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়ার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে সেই নালিশ প্রত্যাহারের অনুমতি দেবেন এবং আসামিকে খালাস দেবেন। এই ধারাটি শুধু নিষ্পত্তিযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে, যা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় আপোষযোগ্য বর্ণনা করা হয়েছে। সে জন্য অভিযোগকারী এই ধারা অনুসারে নালিশ প্রত্যাহার করতে পারেন।

★★★দেওয়ানি মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে করণীয়  :
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ আদেশের ১ বিধি  অনুসারে মামলা হওয়ার পর যে কোনো সময় বাদী সকল বা যে কোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে বা আংশিক দাবি পরিত্যাগ করতে পারেন। যে ক্ষেত্রে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোনো পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য মোকদ্দমাটি ব্যর্থ হতে বাধ্য এবং মামলার বিষয়বস্তুর জন্য কিংবা কোনো দাবির অংশের জন্য নতুনভাবে মোকদ্দমা করার জন্য বাদীকে অনুমতি দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, সে ক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত শর্তে বাদীকে তার মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে অথবা তার আংশিক দাবি পরিত্যাগ করার অনুমতি দিতে পারবেন এবং মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বা আংশিক দাবি সম্পর্কে পুনরায় মোকদ্দমা করার অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।আদালতের অনুমতি ছাড়া যে ক্ষেত্রে বাদী মোকদ্দমা প্রত্যাহার করেন বা আংশিক দাবি পরিত্যাগ করেন, সে ক্ষেত্রে বাদী আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোকদ্দমার খরচার জন্য দায়ী হবেন এবং ওই বিষয়বস্তু সম্পর্কে নতুনভাবে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।এই নিয়মের কোনো বিধানবলে আদালত কয়েকজন বাদীর মধ্যে একজনকে অন্যান্য বাদীর সম্মতি ছাড়া মোকদ্দমা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারেন না।সাধারণত প্রত্যাহারের পর একই বিষয়ে আর মামলা করা যায় না  তবে উচ্চতর আদালতে রিভিশন দায়ের করে আদালতকে যদি সন্তুষ্ট করা যায়, সে ক্ষেত্রে পুনর্বিচার কিংবা পুনর্তদন্তের নির্দেশ ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত দিতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় অপরাধগুলোকে আপসযোগ্যতার ভিত্তিতে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে ১৭টি অপরাধের তালিকা, যেগুলো আদালতের অনুমতি ছাড়াই তৃতীয় কলামে উল্লিখিত ব্যক্তি আপস করতে পারবে। আর দ্বিতীয় ভাগে আছে আরো ৪৪টি অপরাধের তালিকা, যেগুলো আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে কলামে উল্লিখিত ব্যক্তি আপস করতে পারে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারার উল্লেখ নেই, এমন কোনো অপরাধ আপস করা যাবে না। বিশেষ আইনে উল্লিখিত অপরাধগুলোও আপসযোগ্য নহে হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনো আপোসযোগ্য নহে অপরাধ আইনের বিধান লঙ্ঘন করে আপস করা হয়, তাহলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ২১৩ ও ২১৪ ধারা আনুযায়ী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই আপসের ও মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।মামলা হাইকোর্ট বিভাগ বা সেশন কোর্টে আপিলরত অবস্থায় থাকলেও আপোষ করা যেতে পারে। মামলা আপোষ  করার মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলা থেকে রেহাই পেয়ে থাকে। এ কারণে কোনো মামলা একবার আপোস করা হলে পুনরায় একই বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা যায় না। তবে কোনো আপস যদি ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্ররোচণা বা জোরপূর্বক করা হয়, তবে তা আপস হিসেবে বিবেচিত হবে না। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা প্রত্যাহার করা হলে একই বিষয়ে আবার নতুন করে মামলা করা যায় না। দেওয়ানি মামলার ‘রেস জুডিকাটা’ বা দোবারা নীতি এবং ফৌজদারি মামলার দোবারা সাজা নীতির আলোকে এ ধরনের মামলাকে বাধা দেওয়া হয়। তবে উচ্চতর আদালতে রিভিশন দায়ের করে আদালতকে যদি সন্তুষ্ট করা যায়, সে ক্ষেত্রে পুনর্বিচার কিংবা পুনঃতদন্তের নির্দেশ ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত দিতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতার অধীনে এ ধরনের আদেশ দেওয়ার সুযোগ আছে।

                               ★★★
সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন,নিজে আইন মেনে চলুন,অন্যকেও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।সবাই আইন ও নিয়ম মেনে চলে একটি সুন্দর সমাজ তথা দেশ ঘটনে অবদান রাখুন।

শেখ মোহাম্মদ  আমির উদ্দিন(আমির)
                                        এডভোকেট,
                                  ঢাকা জজ কোর্ট
প্রধান সম্পাদক, আইন আদালত সবার তরে।
            প্র‍য়োজনে - 01673- 240243,